ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ছাতকের হাসনাবাদ বাজার ব্যবসায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন: সভাপতি রফিক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বশির তাহিরপুরে মিথ্যা তকমা দিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক আলম সাব্বিরকে হেয় করার প্রতিবাদ  অনলাইন সাংবাদিকতাই এখন একমাত্র ভরসা – সেতুমন্ত্রী হাসপাতাল চালুর দাবিতে সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে “রোড ব্লক কর্মসূচি “ তাহিরপুরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু  সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন,সভাপতি পদে সোহেল ও আফতাবের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এক সপ্তাহে তিন প্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ চুরি ভেনিজুয়েলায় ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, লক্ষাধিক প্রাণহানির শঙ্কা আলমখালী নইছড়া খাল দখল-ভরাটে কৃত্রিম বন্যা, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমানকে ওএসডি

কলেজ শিক্ষিকাকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 249
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বেতগঞ্জ বাজারস্থ আলহাজ্ব জামসেদ-আছিয়া মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক হাসিনা হাসনাত কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলী আহমদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাতমূলক আচরণ, বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম এবং তাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জ পৌরবিপণীস্থ একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে হাসিনা হাসনাত বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কলেজে পাঠদান করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও একক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে শুরু করেন এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি ও চাকরি থেকে অপসারণ করেন।

তিনি জানান, গত ৫ মে কলেজে গেলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নির্দেশে তাকে ক্লাস গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তাকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি দাবি করেন, ঘটনার সূত্রপাত হয় শিক্ষকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কোচিং ক্লাস বণ্টনের আলাপের পর। সেখানে ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষককে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত ক্লাস প্রদান এবং অন্যান্য শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানো হলে তার প্রতি বিরূপ আচরণ শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কলেজ পরিচালনায় একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতার অভাব, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বৈষম্য, পরীক্ষা পরিচালনা ও সম্মানী বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের স্বপ্ন ও ত্যাগের ফসল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিভিন্ন অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও একক সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশের অবনতি ঘটছে এবং শিক্ষার্থী ভর্তির হারও কমে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলী আহমদ বলেন, শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কলেজে গ্রুপিং এবং সেচ্চাচারীতার অভিযোগ আছে। এরকম অজুহাতে চাকুরীচূত্য করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজটি নতুন। খন্ডখালীন শিক্ষক দিয়ে চলছে। এখানে নিয়োগ ও যোগদানের কোন বৈধতা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস : আমার সুনামগঞ্জ | Amar Sunamganj

কলেজ শিক্ষিকাকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ১০:০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বেতগঞ্জ বাজারস্থ আলহাজ্ব জামসেদ-আছিয়া মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক হাসিনা হাসনাত কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলী আহমদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাতমূলক আচরণ, বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম এবং তাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জ পৌরবিপণীস্থ একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে হাসিনা হাসনাত বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কলেজে পাঠদান করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও একক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে শুরু করেন এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি ও চাকরি থেকে অপসারণ করেন।

তিনি জানান, গত ৫ মে কলেজে গেলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নির্দেশে তাকে ক্লাস গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তাকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি দাবি করেন, ঘটনার সূত্রপাত হয় শিক্ষকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কোচিং ক্লাস বণ্টনের আলাপের পর। সেখানে ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষককে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত ক্লাস প্রদান এবং অন্যান্য শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানো হলে তার প্রতি বিরূপ আচরণ শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কলেজ পরিচালনায় একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতার অভাব, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বৈষম্য, পরীক্ষা পরিচালনা ও সম্মানী বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের স্বপ্ন ও ত্যাগের ফসল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিভিন্ন অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও একক সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশের অবনতি ঘটছে এবং শিক্ষার্থী ভর্তির হারও কমে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলী আহমদ বলেন, শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কলেজে গ্রুপিং এবং সেচ্চাচারীতার অভিযোগ আছে। এরকম অজুহাতে চাকুরীচূত্য করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজটি নতুন। খন্ডখালীন শিক্ষক দিয়ে চলছে। এখানে নিয়োগ ও যোগদানের কোন বৈধতা নেই।