ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মধ্যনগরের হাওর ও কৃষিজমি রক্ষায় হাওরের অবৈধভাবে কান্দা কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন। কৃষিজমির উপরিভাগ কর্তন ও জবরদখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার। জগন্নাথপুর আদর্শ মহিলা কলেজের নবীন বরন ও বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন ছাতকে চরম অবহেলা, ৫ মাস আগের মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন শরীরে দিল নার্স, জীবন সংকটে রোগী। তাহিরপুরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে ভিডিপি সদস্যরা আট দলীয় জোটের লিয়াজো কমিটির বৈঠক  নাশকতার মামলায় ধর্মপাশায় আওয়ামী লীগ নেতার গ্রেপ্তার শেখ কামাল পাশা স্মৃতি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত ছাতকে মিলনের পক্ষে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা এ কে এম রিপনের গণসংযোগ ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা জামায়াতের যৌথ রুকন (সদস্য) সমাবেশ অনুষ্ঠিত

জাতীয় নাগরিক কমিটির গবেষণা

৮ মাসে বিএনপির সংঘর্ষে নিহত ৭০

ওয়াসিম সিদ্দিকী
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 178
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ে। এ সময় ঘটে অসংখ্য খুনের ঘটনা। যা নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। এতে দেখা যায়, গত আট মাসে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের সংঘর্ষ এবং হামলায় ৭০ জন নিহত হয়েছে।

গবেষণাটি করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় ডায়াসপোরা কমিটির সদস্য ইশতিয়াক আকিব। সঙ্গে ছিলেন গবেষক আবিদুর রহমান।

এ গবেষণা প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার জাতীয় নাগরিক কমিটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—নতুন বাংলাদেশ, পুরোনো বিএনপি।

এতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। কিন্তু এ দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির সদস্যরা এখনো পুরোনো ধারায় রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে রাজনীতি মানেই অপরাধ ও সহিংসতা। গত ৭ আগস্ট থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন খবর অনুসারে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের একটি তালিকা করা হয়েছে এবং অপরাধগুলো আর্থিক ও মৌখিক সহিংসতা (চাঁদাবাজি, হুমকি, দখল ইত্যাদি); শারীরিক সহিংসতা (ভাঙচুর, মারধর, সংঘর্ষ ইত্যাদি) এবং মৃত্যু—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে মোট ৩৭২টি আর্থিক ও মৌখিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শারীরিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪৮৮টি। নিহত হয়েছে ৭০ জন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে একাধিক অপরাধ একই সঙ্গে সংঘটিত হয়েছে—তাই সব মিলিয়ে ৬৮১টি ঘটনায় বিএনপি বা তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে জেলাভিত্তিক ম্যাপ সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইন্টার‍্যাক্টিভ ম্যাপ ও পূর্ণ তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। যা সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে কমেন্টে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির নেতাকর্মীদের কারণে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ জেলা চট্টগ্রাম। এ যেন নতুন বাংলাদেশে পুরোনো বিএনপি। স্বাধীন দেশে রাজনৈতিক সংহিতায় এতগুলো মানুষ মারা গেল, কিন্তু দলগুলোর ভেতরে কোনো সংস্কার নেই, দলীয় শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণও নেই।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব আমার দেশকে বলেন, ৭ আগস্ট থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিএনপির নিজস্ব কোন্দলসহ হামলার যে পরিসংখ্যান এসেছে, সেটা খুবই উদ্বেগজনক। এ অবস্থা চলতে থাকলে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে।

আদীব আরো বলেন, গত ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে এক দফার আন্দোলনে বিএনপির সম্ভবত ২২ কিংবা ২৭ জন নিহত হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর গত আট মাসে অনুকূল পরিবেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যদের দ্বারা ৭০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা রীতিমতো ভাবনার বিষয়। আমরা অতীতে যেটা দেখেছি, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হামলা এবং সংঘর্ষে মানুষ নিহত হতো। গত বছরের ২২ আগস্ট ফরিদপুরে বিএনপির শামা ওবায়েদ এবং কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুলের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নিজ দলীয় নেতাকর্মী প্রাণ হারান, সেই ধারাবাহিকতা চলছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির আমার দেশকে বলেন, নতুন বাংলাদেশে এরকম হানাহানি, খুনোখুনি চাই না। সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে হানাহানিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সবার সম্মিলিত প্রয়াস দরকার।

সূত্র: দৈনক আমার দেশ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস : আমার সুনামগঞ্জ | Amar Sunamganj

জাতীয় নাগরিক কমিটির গবেষণা

৮ মাসে বিএনপির সংঘর্ষে নিহত ৭০

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ে। এ সময় ঘটে অসংখ্য খুনের ঘটনা। যা নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। এতে দেখা যায়, গত আট মাসে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের সংঘর্ষ এবং হামলায় ৭০ জন নিহত হয়েছে।

গবেষণাটি করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় ডায়াসপোরা কমিটির সদস্য ইশতিয়াক আকিব। সঙ্গে ছিলেন গবেষক আবিদুর রহমান।

এ গবেষণা প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার জাতীয় নাগরিক কমিটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—নতুন বাংলাদেশ, পুরোনো বিএনপি।

এতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। কিন্তু এ দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির সদস্যরা এখনো পুরোনো ধারায় রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে রাজনীতি মানেই অপরাধ ও সহিংসতা। গত ৭ আগস্ট থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন খবর অনুসারে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের একটি তালিকা করা হয়েছে এবং অপরাধগুলো আর্থিক ও মৌখিক সহিংসতা (চাঁদাবাজি, হুমকি, দখল ইত্যাদি); শারীরিক সহিংসতা (ভাঙচুর, মারধর, সংঘর্ষ ইত্যাদি) এবং মৃত্যু—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে মোট ৩৭২টি আর্থিক ও মৌখিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শারীরিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪৮৮টি। নিহত হয়েছে ৭০ জন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে একাধিক অপরাধ একই সঙ্গে সংঘটিত হয়েছে—তাই সব মিলিয়ে ৬৮১টি ঘটনায় বিএনপি বা তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে জেলাভিত্তিক ম্যাপ সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইন্টার‍্যাক্টিভ ম্যাপ ও পূর্ণ তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। যা সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে কমেন্টে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির নেতাকর্মীদের কারণে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ জেলা চট্টগ্রাম। এ যেন নতুন বাংলাদেশে পুরোনো বিএনপি। স্বাধীন দেশে রাজনৈতিক সংহিতায় এতগুলো মানুষ মারা গেল, কিন্তু দলগুলোর ভেতরে কোনো সংস্কার নেই, দলীয় শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণও নেই।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব আমার দেশকে বলেন, ৭ আগস্ট থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিএনপির নিজস্ব কোন্দলসহ হামলার যে পরিসংখ্যান এসেছে, সেটা খুবই উদ্বেগজনক। এ অবস্থা চলতে থাকলে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে।

আদীব আরো বলেন, গত ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে এক দফার আন্দোলনে বিএনপির সম্ভবত ২২ কিংবা ২৭ জন নিহত হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর গত আট মাসে অনুকূল পরিবেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যদের দ্বারা ৭০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা রীতিমতো ভাবনার বিষয়। আমরা অতীতে যেটা দেখেছি, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হামলা এবং সংঘর্ষে মানুষ নিহত হতো। গত বছরের ২২ আগস্ট ফরিদপুরে বিএনপির শামা ওবায়েদ এবং কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুলের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নিজ দলীয় নেতাকর্মী প্রাণ হারান, সেই ধারাবাহিকতা চলছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির আমার দেশকে বলেন, নতুন বাংলাদেশে এরকম হানাহানি, খুনোখুনি চাই না। সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে হানাহানিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সবার সম্মিলিত প্রয়াস দরকার।

সূত্র: দৈনক আমার দেশ