ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলেজ শিক্ষিকাকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার রক্তি নদীতে হাউজবোডের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষের ভৈরবের মালবাহী নৌকার মাঝির লাশ উদ্ধার ;আটক ৯ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জামায়াত  সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে ভয়াবহ আগুন ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ৬০ দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে মুর্তজ আলী ইনকিলাব জিন্দাবাদ লিখে পোস্ট: ডা. শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাস ভাইরাল ধানের শীষে ভোট না দেওয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ তাহিরপুরে শিপলু হত্যা মামলা ঘিরে পুরনো রায় নতুন করে আলোচনায়, যুবদল নেতার বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ মধ্যনগরে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ছাতক-দোয়ারার মানুষ পরিবর্তন চায়’দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে প্রচার মিছিল নেতাকর্মীদের ঢল

তাহিরপুরে শিপলু হত্যা মামলা ঘিরে পুরনো রায় নতুন করে আলোচনায়, যুবদল নেতার বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ

Mohammad Saqib
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 5387
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামান শিপলু হত্যা মামলার রায় নিয়ে দীর্ঘদিন পর আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল তাহিরপুরে এক রাজনৈতিক সমাবেশে যুবদল নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ পুরনো ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২০ মার্চ রাতে তাহিরপুর উপজেলার ভাটি তাহিরপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে তাহিরপুর জয়নাল আবেদীন মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান শিপলুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় শিপলুর মা আমিরুনেচ্ছা বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রণয় কুমার দাস এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তাহিরপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ উদ্দিনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বাকি ছয় আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।
খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন তাহিরপুর থানার তৎকালীন এসআই রফিকুল ইসলাম, তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল, উপজেলা বিএনপি নেতা জুনাব আলী, মেহদী হাসান উজ্জ্বল ও শাহিন মিয়া।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও তৎকালীন পিপি ড. খায়রুল কবীর রুমেন সাংবাদিকদের জানান, তারা এ রায়ে ন্যায়বিচার পাননি এবং মূল আসামিরা খালাস পাওয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে ঘোষণা দেন। মামলায় বাদীপক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আফতাব উদ্দিনও মামলা পরিচালনা করেন।
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সুনামগঞ্জ জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক রায় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বক্তব্যে ফের আলোচনায় মামলা
এই পুরনো মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে গত ২৪ জানুয়ারি তাহিরপুরে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত বিএনপি নেতা আনিসুল হক ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে সমালোচনা শুরু হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আনিসুল হকের ছোট ভাই ও তাহিরপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক শিপলু হত্যা মামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মামলার পর কামরুজ্জামান কামরুল বিদেশে চলে যান এবং ওই সময় দলের দুর্দিনে আনিসুল হকই তৃণমূল নেতাকর্মীদের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ১/১১–পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে কামরুল বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চেয়ে নিজের অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তবে ওই নির্বাচনে আনিসুল হক জয়ী হন এবং পরবর্তীতে কামরুল আবার বিদেশে চলে যান বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে আনিসুল হকের ক্ষোভ
সমাবেশে আনিসুল হক নিজেও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দল যদি শুরু থেকেই তাকে মনোনয়ন না দিত, তাহলে তার কোনো দুঃখ থাকত না। কিন্তু প্রথমে মনোনয়ন দেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে তা পরিবর্তন করায় তিনি হতাশ হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কুৎসা রটনার মাধ্যমে তাকে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ ও ক্ষোভের মাঝেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে উপস্থিত জনতাকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে সমাবেশের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাহিরপুরসহ সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে শিপলু হত্যা মামলার রায় ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস : আমার সুনামগঞ্জ | Amar Sunamganj

তাহিরপুরে শিপলু হত্যা মামলা ঘিরে পুরনো রায় নতুন করে আলোচনায়, যুবদল নেতার বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ

আপডেট সময় : ০৪:০৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামান শিপলু হত্যা মামলার রায় নিয়ে দীর্ঘদিন পর আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল তাহিরপুরে এক রাজনৈতিক সমাবেশে যুবদল নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ পুরনো ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২০ মার্চ রাতে তাহিরপুর উপজেলার ভাটি তাহিরপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে তাহিরপুর জয়নাল আবেদীন মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান শিপলুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় শিপলুর মা আমিরুনেচ্ছা বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রণয় কুমার দাস এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তাহিরপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ উদ্দিনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বাকি ছয় আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।
খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন তাহিরপুর থানার তৎকালীন এসআই রফিকুল ইসলাম, তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল, উপজেলা বিএনপি নেতা জুনাব আলী, মেহদী হাসান উজ্জ্বল ও শাহিন মিয়া।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও তৎকালীন পিপি ড. খায়রুল কবীর রুমেন সাংবাদিকদের জানান, তারা এ রায়ে ন্যায়বিচার পাননি এবং মূল আসামিরা খালাস পাওয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে ঘোষণা দেন। মামলায় বাদীপক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আফতাব উদ্দিনও মামলা পরিচালনা করেন।
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সুনামগঞ্জ জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক রায় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বক্তব্যে ফের আলোচনায় মামলা
এই পুরনো মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে গত ২৪ জানুয়ারি তাহিরপুরে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত বিএনপি নেতা আনিসুল হক ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে সমালোচনা শুরু হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আনিসুল হকের ছোট ভাই ও তাহিরপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক শিপলু হত্যা মামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মামলার পর কামরুজ্জামান কামরুল বিদেশে চলে যান এবং ওই সময় দলের দুর্দিনে আনিসুল হকই তৃণমূল নেতাকর্মীদের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ১/১১–পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে কামরুল বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চেয়ে নিজের অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তবে ওই নির্বাচনে আনিসুল হক জয়ী হন এবং পরবর্তীতে কামরুল আবার বিদেশে চলে যান বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে আনিসুল হকের ক্ষোভ
সমাবেশে আনিসুল হক নিজেও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দল যদি শুরু থেকেই তাকে মনোনয়ন না দিত, তাহলে তার কোনো দুঃখ থাকত না। কিন্তু প্রথমে মনোনয়ন দেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে তা পরিবর্তন করায় তিনি হতাশ হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কুৎসা রটনার মাধ্যমে তাকে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ ও ক্ষোভের মাঝেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে উপস্থিত জনতাকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে সমাবেশের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাহিরপুরসহ সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে শিপলু হত্যা মামলার রায় ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।