ধানের শীষে ভোট না দেওয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০১:১৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 40
ধানের শীষে ভোট না দেওয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোটকে কেন্দ্র করে এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।
ঘটনাস্থল ও অভিযোগের বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্য অনুযায়ী, হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচনের পর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি এক নারীর বাড়িতে প্রবেশ করে তার স্বামীকে বেঁধে রেখে তাকে নির্যাতন করে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওই নারী ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-কে ভোট দেওয়ায় হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে।
ভুক্তভোগী নারীকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার রয়েছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভুক্তভোগীর ব্লার করা মুখের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। ভিডিওতে তিনি নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন—এমন দাবি করা হচ্ছে।
এছাড়া একজন চিকিৎসকের বক্তব্যের ভিডিওও ভাইরাল হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে, যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটিকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং নারীর নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলেন।
সামাজিক মাধ্যমে আরও দাবি করা হচ্ছে, তিনি ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন—যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও বিতর্ক
ঘটনাটিকে ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কিছু কর্মী বা সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে—এমন আলোচনা সামাজিক মাধ্যমে চলছে।
তবে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা চলছে। একটি প্রতিবেদনে জামায়াত আমীর নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছেন বলে উল্লেখ আছে।
প্রশাসনের করণীয়
মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন—
- অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি
- ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন
- রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে হবে
সতর্কতা
এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য সামাজিক মাধ্যম ও প্রাথমিক সূত্রভিত্তিক। আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও যাচাইয়ের মাধ্যমে পূর্ণ সত্য উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন।














