ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মধ্যনগরের হাওর ও কৃষিজমি রক্ষায় হাওরের অবৈধভাবে কান্দা কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন। কৃষিজমির উপরিভাগ কর্তন ও জবরদখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার। জগন্নাথপুর আদর্শ মহিলা কলেজের নবীন বরন ও বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন ছাতকে চরম অবহেলা, ৫ মাস আগের মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন শরীরে দিল নার্স, জীবন সংকটে রোগী। তাহিরপুরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে ভিডিপি সদস্যরা আট দলীয় জোটের লিয়াজো কমিটির বৈঠক  নাশকতার মামলায় ধর্মপাশায় আওয়ামী লীগ নেতার গ্রেপ্তার শেখ কামাল পাশা স্মৃতি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত ছাতকে মিলনের পক্ষে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা এ কে এম রিপনের গণসংযোগ ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা জামায়াতের যৌথ রুকন (সদস্য) সমাবেশ অনুষ্ঠিত

টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় জেলা প্রশাসনের জরুরি নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
  • / 328
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও মধ্যনগর  উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি ‘টাঙ্গুয়ার হাওর’ রক্ষায় নতুন করে নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ  জেলা প্রশাসন।

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ভ্রমণকারীদের জন্য এই নির্দেশনাগুলো ‘করণীয় ও বর্জনীয়’ (Dos and Don’ts) আকারে নির্ধারণ করা হয়েছে।

১২,৬৫৫.১৪ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত এই হাওর ১০৯টি বিল, হিজল-করচের বন এবং ২০৮ প্রজাতির পাখিসহ বিশাল প্রাণবৈচিত্র্যের আবাসস্থল। ইউনেস্কো ২০০০ সালে একে ‘রামসার সাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বর্ষা ও শীত—দুই মৌসুমেই ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর থাকে এই এলাকা।

তবে পরিকল্পনাহীন ও অসচেতন পর্যটনের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ায় জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা করা ও শুনা যাবে না। হাওরের পানিতে অজৈব বা প্লাস্টিকজাতীয় পণ্য/বর্জ্য ফেলা যাবেনা। মাছ ধরা, শিকার বা পাখির ডিম সংগ্রহ করা যাবে না। পাখিদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে কোন ধরনের বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। ডিটারজেন্ট, শ্যাম্পু বা রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না। গাছ কাটা, গাছের ঢাল ভাঙা বা বনজ সম্পদ সংগ্রহ করা যাবে না। কোর জোন বা সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করা যাবেনা। মনুষ্য সৃষ্ট জৈব বর্জ্য হাওরে ফেলা যাবেনা।

অন্যদিকে, পর্যটকদের করণীয় হিসেবে বলা হয়েছে—জেলা প্রশাসন নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার, লাইফ জ্যাকেট পরিধান, প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার হতে বিরত থাকা, স্থানীয় গাইডের সহায়তা গ্রহণ, দূর থেকে জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ এবং ক্যাম্পফায়ার বা আলো জ্বালানো থেকে বিরত থাকা বাধ্যতামূলক।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পর্যটকদের সচেতন করতে লিফলেট, ব্যানার ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার জোরদার করা হয়েছে। নির্দেশনার বাস্তবায়নে ট্যুর অপারেটর, নৌযান মালিক, হাউসবোট ব্যবস্থাপক ও স্থানীয় গাইডদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস : আমার সুনামগঞ্জ | Amar Sunamganj

টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় জেলা প্রশাসনের জরুরি নির্দেশনা

আপডেট সময় : ১১:১৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও মধ্যনগর  উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি ‘টাঙ্গুয়ার হাওর’ রক্ষায় নতুন করে নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ  জেলা প্রশাসন।

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ভ্রমণকারীদের জন্য এই নির্দেশনাগুলো ‘করণীয় ও বর্জনীয়’ (Dos and Don’ts) আকারে নির্ধারণ করা হয়েছে।

১২,৬৫৫.১৪ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত এই হাওর ১০৯টি বিল, হিজল-করচের বন এবং ২০৮ প্রজাতির পাখিসহ বিশাল প্রাণবৈচিত্র্যের আবাসস্থল। ইউনেস্কো ২০০০ সালে একে ‘রামসার সাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বর্ষা ও শীত—দুই মৌসুমেই ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর থাকে এই এলাকা।

তবে পরিকল্পনাহীন ও অসচেতন পর্যটনের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ায় জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা করা ও শুনা যাবে না। হাওরের পানিতে অজৈব বা প্লাস্টিকজাতীয় পণ্য/বর্জ্য ফেলা যাবেনা। মাছ ধরা, শিকার বা পাখির ডিম সংগ্রহ করা যাবে না। পাখিদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে কোন ধরনের বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। ডিটারজেন্ট, শ্যাম্পু বা রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না। গাছ কাটা, গাছের ঢাল ভাঙা বা বনজ সম্পদ সংগ্রহ করা যাবে না। কোর জোন বা সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করা যাবেনা। মনুষ্য সৃষ্ট জৈব বর্জ্য হাওরে ফেলা যাবেনা।

অন্যদিকে, পর্যটকদের করণীয় হিসেবে বলা হয়েছে—জেলা প্রশাসন নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার, লাইফ জ্যাকেট পরিধান, প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার হতে বিরত থাকা, স্থানীয় গাইডের সহায়তা গ্রহণ, দূর থেকে জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ এবং ক্যাম্পফায়ার বা আলো জ্বালানো থেকে বিরত থাকা বাধ্যতামূলক।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পর্যটকদের সচেতন করতে লিফলেট, ব্যানার ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার জোরদার করা হয়েছে। নির্দেশনার বাস্তবায়নে ট্যুর অপারেটর, নৌযান মালিক, হাউসবোট ব্যবস্থাপক ও স্থানীয় গাইডদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।