ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অনলাইন সাংবাদিকতাই এখন একমাত্র ভরসা – সেতুমন্ত্রী হাসপাতাল চালুর দাবিতে সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে “রোড ব্লক কর্মসূচি “ তাহিরপুরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু  সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন,সভাপতি পদে সোহেল ও আফতাবের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এক সপ্তাহে তিন প্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ চুরি ভেনিজুয়েলায় ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, লক্ষাধিক প্রাণহানির শঙ্কা আলমখালী নইছড়া খাল দখল-ভরাটে কৃত্রিম বন্যা, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমানকে ওএসডি তাহিরপুরে ৩৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে এনসিপির বিক্ষোভ

ঐতিহাসিক বদর দিবস

আলী হাসান তৈয়ব
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
  • / 879
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ ১৭ রমজান। দ্বিতীয় হিজরির এ দিনে সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক বদরযুদ্ধ, ইসলামের প্রথম যুদ্ধ। আল্লাহ সেদিন তাঁর রাসুল (সা.) ও মোমিনদের বিজয়ী এবং কাফির ও মুশরিকদের পরাজিত করার মাধ্যমে হক ও বাতিলের প্রভেদ প্রতিভাত করে দিয়েছেন। কোরআনে আল্লাহ দিবসটিকে ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ তথা সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণের দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ছিল, রাসুলুল্লাহ (সা.) সংবাদ পান যে, আবু সুফিয়ান কুরাইশ কাফিরদের একটি বাণিজ্য দল নিয়ে সিরিয়া থেকে মক্কা ফিরছে। তিনি সাহাবিদের নির্দেশ দেন কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলার গতি রোধে বের হতে। কেননা কুরাইশরা রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কাফির কুরাইশরা মুসলিমদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল; অবস্থান নিয়েছিল ইসলামের সত্যবাণীর দাওয়াতের বিরুদ্ধে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ৩১০ জনের বেশি সাহাবিকে নিয়ে বদর অভিমুখে রওনা হন। তাদের ছিল কেবল দুটি ঘোড়া ও ৭০টি উট, যাতে তারা পালাক্রমে চড়ছিলেন। এ যুদ্ধে ৭০ জন মুহাজির এবং অন্যরা আনসার মুজাহিদ ছিলেন। তারা বাণিজ্য কাফেলা ধরতে চেয়েছিলেন, যুদ্ধ করতে চাননি। কিন্তু আল্লাহতায়ালা অনির্ধারিত সময়ে তাঁর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মুসলিম ও শত্রুদের মাঝে মুখোমুখি দাঁড় করালেন।

আবু সুফিয়ান মুসলিমদের অবস্থা জানতে পেরে কুরাইশদের কাছে এ মর্মে একজন চিৎকারকারী সংবাদবাহক পাঠায়, যেন কুরাইশরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে তার সাহায্যে এগিয়ে আসে। তাই আবু সুফিয়ান রাস্তা পরিবর্তন করে সমুদ্র উপকূল ধরে রওনা দিল এবং নিরাপদে পৌঁছে গেল। কিন্তু কুরাইশ সম্প্রদায় তাদের কাছে চিৎকারকারীর মাধ্যমে সংবাদ পৌঁছামাত্রই তাদের নেতৃস্থানীয় ১ হাজার লোক সদলবলে যুদ্ধের উদ্দেশে রওনা দিল। তাদের ছিল ১০০টি অশ্ব ও ৭০০ উট। আল্লাহর ভাষায় তারা বের হয়েছিল, ‘অহংকার ও লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং আল্লাহর রাস্তা থেকে বাধা প্রদান করতে।’ (সুরা আনফাল : ৪৭)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর সৈন্যদল সাহাবিদের সঙ্গে নিয়ে চললেন এবং বদর কূপগুলোর কাছের পানির কূপের সম্মুখে যাত্রাবিরতি দিলেন। মুসলিমরা যুদ্ধের মাঠে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য উঁচু স্থানে একটি তাঁবু বানালেন, যেখান থেকে যুদ্ধের ময়দান দেখা যায়। তিনি সেখানে অবস্থান করেছিলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) সেখান থেকে নামলেন, সাহাবিদের কাতার সুন্দর করে সাজালেন, যুদ্ধের ময়দানে চলতে থাকলেন এবং মুশরিকদের পতনের স্থল ও হত্যার স্থানগুলোর দিকে ইঙ্গিত করতে থাকলেন।

আর তিনি বলছিলেন, ‘আল্লাহ চাহে তো এটা অমুকের পতিত হওয়ার জায়গা, এটা অমুকের মৃত্যুস্থান।’ পরে দেখা গেল, রাসুলের ইঙ্গিতের জায়গা থেকে ওই লোকদের মৃত্যু সামান্যও হেরফের হয়নি। (মুসলিম : ১৭৭৯)।

এরপর দুটি দল (মুসলিম ও মুশরিক) পরস্পর মুখোমুখি হলো। যুদ্ধ চলতে থাকল এবং প্রচণ্ড রূপ লাভ করল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁবুতে অবস্থান করলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আবু বকর (রা.) ও সা’দ ইবন মু’আয (রা.)। তারা দুজনই রাসুলুল্লাহকে (সা.) পাহারা দিচ্ছিলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বীয় রবের কাছে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কাতর প্রার্থনা জানালেন; সাহায্য ও বিজয়ের প্রার্থনা করলেন; উদ্ধার চাইলেন। তারপর রাসুল সামান্যতম সময়ের জন্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন। তারপর এ অবস্থা থেকে বের হয়ে বললেন, ‘অবশ্যই কাফিররা পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠদেশ দেখিয়ে পলায়ন করবে।’ (সুরা কামার : ৪৫)।

তিনি মুসলিম যোদ্ধাদের যুদ্ধের প্রতি উৎসাহ দিয়ে বললেন, ‘ওই সত্তার শপথ! যার হাতে মোহাম্মদের প্রাণ, আজ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, ধৈর্য ধারণ করে সওয়াবের আশায় সামনে অগ্রসর হয়ে পৃষ্ঠদেশ প্রদর্শন না করে যুদ্ধ করে মারা যাবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (মুসলিম : ১৯০১)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) একমুষ্টি মাটি বা পাথর নিয়ে কাফির দলের প্রতি ছুড়ে মারলেন। রাসুলের নিক্ষিপ্ত পাথর তাদের সবার চোখে বিদ্ধ হলো। তাদের সবার চোখেই সেটা পূর্ণ করে দিল, তারা তাদের চোখের মাটি ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল- যা ছিল আল্লাহর নিদর্শনগুলোর একটি নিদর্শন। ফলে মুশরিক সৈন্যদের পরাজয় হলো এবং তারা পৃষ্ঠদেশ প্রদর্শন করে যুদ্ধের মাঠ থেকে পলায়ন করল। আর মুসলিমরা তাদের পিছু নিয়ে তাদের হত্যা ও বন্দি করা অব্যাহত রাখল। এভাবে তাদের ৭০ জন কাফির নিহত ও ৭০ জন বন্দি হলো। নিহতের মধ্যে ২৪ জন কাফির কুরাইশ নেতাকে বদরের একটি কর্দমাক্ত কূপে নিক্ষেপ করা হলো। এদের মধ্যে ছিল আবু জাহল, শায়বা ইবন রবি’আ ও তার ভাই উতবা এবং তার ছেলে অলিদ ইবন উতবা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়ম ছিল, তিনি কারো ওপর বিজয়ী হলে সেখানে তিনদিন অবস্থান করতেন। সে অনুসারে বদরের তৃতীয় দিনে তিনি তাঁর বাহন প্রস্তুতের নির্দেশ দিলেন, তা বাঁধা হলে তিনি চলতে লাগলেন। সাহাবিরা তাঁর পিছু নিলেন। অবশেষে তিনি কূপের পার্শ্বদেশে দাঁড়ালেন। প্রত্যেকের নাম ও বাবার নাম ধরে ডাকলেন এবং বলতে লাগলেন, হে অমুকের পুত্র অমুক, হে অমুকের পুত্র অমুক, আজ তোমাদের জন্য কি এটা আন্দদায়ক হতো না, যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করতে? আমাদের রব আমাদের বিজয় দান করার ব্যাপারে যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা যথার্থ পেয়েছি। তোমরা কি তোমাদের রবের ওয়াদা পেয়েছ? (বোখারি : ৩৯৭৬)।

এ হচ্ছে বদর যুদ্ধ। যে যুদ্ধে অল্পসংখ্যক সৈন্য বাহিনী বেশিসংখ্যক সৈন্য বাহিনীর ওপর বিজয় অর্জন করেছিল। ‘একটি দল লড়াই করছিল আল্লাহর পথে এবং অপর দলটি কাফির।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৩)।

অল্পসংখ্যক লোকের দলটি বিজয় অর্জন করেছিল। কেননা তারা আল্লাহর দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা আল্লাহর দ্বীনের কলেমা বুলন্দ করার জন্য ও আল্লাহর দ্বীনের পক্ষে প্রতিরোধ করার জন্য যুদ্ধ করেছিল। ফলে মহান আল্লাহ তাদের বিজয় দান করেছিলেন। অতএব রমজান শুধু সিয়াম-সাধনার মাস নয়, এটি ঈমানের বিজয়ের মাসও। তাই প্রত্যেক ঈমানদারের উচিত রমজানে ঈমানের বিজয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া।

লেখক : খতিব, আন-নূর জামে মসজিদ টঙ্গী, গাজীপুর

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস : আমার সুনামগঞ্জ | Amar Sunamganj

ঐতিহাসিক বদর দিবস

আপডেট সময় : ০৫:০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

আজ ১৭ রমজান। দ্বিতীয় হিজরির এ দিনে সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক বদরযুদ্ধ, ইসলামের প্রথম যুদ্ধ। আল্লাহ সেদিন তাঁর রাসুল (সা.) ও মোমিনদের বিজয়ী এবং কাফির ও মুশরিকদের পরাজিত করার মাধ্যমে হক ও বাতিলের প্রভেদ প্রতিভাত করে দিয়েছেন। কোরআনে আল্লাহ দিবসটিকে ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ তথা সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণের দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ছিল, রাসুলুল্লাহ (সা.) সংবাদ পান যে, আবু সুফিয়ান কুরাইশ কাফিরদের একটি বাণিজ্য দল নিয়ে সিরিয়া থেকে মক্কা ফিরছে। তিনি সাহাবিদের নির্দেশ দেন কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলার গতি রোধে বের হতে। কেননা কুরাইশরা রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কাফির কুরাইশরা মুসলিমদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল; অবস্থান নিয়েছিল ইসলামের সত্যবাণীর দাওয়াতের বিরুদ্ধে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ৩১০ জনের বেশি সাহাবিকে নিয়ে বদর অভিমুখে রওনা হন। তাদের ছিল কেবল দুটি ঘোড়া ও ৭০টি উট, যাতে তারা পালাক্রমে চড়ছিলেন। এ যুদ্ধে ৭০ জন মুহাজির এবং অন্যরা আনসার মুজাহিদ ছিলেন। তারা বাণিজ্য কাফেলা ধরতে চেয়েছিলেন, যুদ্ধ করতে চাননি। কিন্তু আল্লাহতায়ালা অনির্ধারিত সময়ে তাঁর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মুসলিম ও শত্রুদের মাঝে মুখোমুখি দাঁড় করালেন।

আবু সুফিয়ান মুসলিমদের অবস্থা জানতে পেরে কুরাইশদের কাছে এ মর্মে একজন চিৎকারকারী সংবাদবাহক পাঠায়, যেন কুরাইশরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে তার সাহায্যে এগিয়ে আসে। তাই আবু সুফিয়ান রাস্তা পরিবর্তন করে সমুদ্র উপকূল ধরে রওনা দিল এবং নিরাপদে পৌঁছে গেল। কিন্তু কুরাইশ সম্প্রদায় তাদের কাছে চিৎকারকারীর মাধ্যমে সংবাদ পৌঁছামাত্রই তাদের নেতৃস্থানীয় ১ হাজার লোক সদলবলে যুদ্ধের উদ্দেশে রওনা দিল। তাদের ছিল ১০০টি অশ্ব ও ৭০০ উট। আল্লাহর ভাষায় তারা বের হয়েছিল, ‘অহংকার ও লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং আল্লাহর রাস্তা থেকে বাধা প্রদান করতে।’ (সুরা আনফাল : ৪৭)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর সৈন্যদল সাহাবিদের সঙ্গে নিয়ে চললেন এবং বদর কূপগুলোর কাছের পানির কূপের সম্মুখে যাত্রাবিরতি দিলেন। মুসলিমরা যুদ্ধের মাঠে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য উঁচু স্থানে একটি তাঁবু বানালেন, যেখান থেকে যুদ্ধের ময়দান দেখা যায়। তিনি সেখানে অবস্থান করেছিলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) সেখান থেকে নামলেন, সাহাবিদের কাতার সুন্দর করে সাজালেন, যুদ্ধের ময়দানে চলতে থাকলেন এবং মুশরিকদের পতনের স্থল ও হত্যার স্থানগুলোর দিকে ইঙ্গিত করতে থাকলেন।

আর তিনি বলছিলেন, ‘আল্লাহ চাহে তো এটা অমুকের পতিত হওয়ার জায়গা, এটা অমুকের মৃত্যুস্থান।’ পরে দেখা গেল, রাসুলের ইঙ্গিতের জায়গা থেকে ওই লোকদের মৃত্যু সামান্যও হেরফের হয়নি। (মুসলিম : ১৭৭৯)।

এরপর দুটি দল (মুসলিম ও মুশরিক) পরস্পর মুখোমুখি হলো। যুদ্ধ চলতে থাকল এবং প্রচণ্ড রূপ লাভ করল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁবুতে অবস্থান করলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আবু বকর (রা.) ও সা’দ ইবন মু’আয (রা.)। তারা দুজনই রাসুলুল্লাহকে (সা.) পাহারা দিচ্ছিলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বীয় রবের কাছে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কাতর প্রার্থনা জানালেন; সাহায্য ও বিজয়ের প্রার্থনা করলেন; উদ্ধার চাইলেন। তারপর রাসুল সামান্যতম সময়ের জন্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন। তারপর এ অবস্থা থেকে বের হয়ে বললেন, ‘অবশ্যই কাফিররা পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠদেশ দেখিয়ে পলায়ন করবে।’ (সুরা কামার : ৪৫)।

তিনি মুসলিম যোদ্ধাদের যুদ্ধের প্রতি উৎসাহ দিয়ে বললেন, ‘ওই সত্তার শপথ! যার হাতে মোহাম্মদের প্রাণ, আজ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, ধৈর্য ধারণ করে সওয়াবের আশায় সামনে অগ্রসর হয়ে পৃষ্ঠদেশ প্রদর্শন না করে যুদ্ধ করে মারা যাবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (মুসলিম : ১৯০১)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) একমুষ্টি মাটি বা পাথর নিয়ে কাফির দলের প্রতি ছুড়ে মারলেন। রাসুলের নিক্ষিপ্ত পাথর তাদের সবার চোখে বিদ্ধ হলো। তাদের সবার চোখেই সেটা পূর্ণ করে দিল, তারা তাদের চোখের মাটি ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল- যা ছিল আল্লাহর নিদর্শনগুলোর একটি নিদর্শন। ফলে মুশরিক সৈন্যদের পরাজয় হলো এবং তারা পৃষ্ঠদেশ প্রদর্শন করে যুদ্ধের মাঠ থেকে পলায়ন করল। আর মুসলিমরা তাদের পিছু নিয়ে তাদের হত্যা ও বন্দি করা অব্যাহত রাখল। এভাবে তাদের ৭০ জন কাফির নিহত ও ৭০ জন বন্দি হলো। নিহতের মধ্যে ২৪ জন কাফির কুরাইশ নেতাকে বদরের একটি কর্দমাক্ত কূপে নিক্ষেপ করা হলো। এদের মধ্যে ছিল আবু জাহল, শায়বা ইবন রবি’আ ও তার ভাই উতবা এবং তার ছেলে অলিদ ইবন উতবা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়ম ছিল, তিনি কারো ওপর বিজয়ী হলে সেখানে তিনদিন অবস্থান করতেন। সে অনুসারে বদরের তৃতীয় দিনে তিনি তাঁর বাহন প্রস্তুতের নির্দেশ দিলেন, তা বাঁধা হলে তিনি চলতে লাগলেন। সাহাবিরা তাঁর পিছু নিলেন। অবশেষে তিনি কূপের পার্শ্বদেশে দাঁড়ালেন। প্রত্যেকের নাম ও বাবার নাম ধরে ডাকলেন এবং বলতে লাগলেন, হে অমুকের পুত্র অমুক, হে অমুকের পুত্র অমুক, আজ তোমাদের জন্য কি এটা আন্দদায়ক হতো না, যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করতে? আমাদের রব আমাদের বিজয় দান করার ব্যাপারে যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা যথার্থ পেয়েছি। তোমরা কি তোমাদের রবের ওয়াদা পেয়েছ? (বোখারি : ৩৯৭৬)।

এ হচ্ছে বদর যুদ্ধ। যে যুদ্ধে অল্পসংখ্যক সৈন্য বাহিনী বেশিসংখ্যক সৈন্য বাহিনীর ওপর বিজয় অর্জন করেছিল। ‘একটি দল লড়াই করছিল আল্লাহর পথে এবং অপর দলটি কাফির।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৩)।

অল্পসংখ্যক লোকের দলটি বিজয় অর্জন করেছিল। কেননা তারা আল্লাহর দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা আল্লাহর দ্বীনের কলেমা বুলন্দ করার জন্য ও আল্লাহর দ্বীনের পক্ষে প্রতিরোধ করার জন্য যুদ্ধ করেছিল। ফলে মহান আল্লাহ তাদের বিজয় দান করেছিলেন। অতএব রমজান শুধু সিয়াম-সাধনার মাস নয়, এটি ঈমানের বিজয়ের মাসও। তাই প্রত্যেক ঈমানদারের উচিত রমজানে ঈমানের বিজয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া।

লেখক : খতিব, আন-নূর জামে মসজিদ টঙ্গী, গাজীপুর