রোনালদোর জোড়া গোলে পর্তুগালের জয়
- আপডেট সময় : ০১:৪৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 18
বুড়িয়ে গেছেন-ফুরিয়ে গেছেন— আরো কতো কথায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছিলেন। কিন্তু রোনালদো চুপ ছিলেন, সব কিছুর জবাব মাঠেই দিলেন। গড়লেন নয়া ইতিহাস।
টেক্সাসে মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন এই মহাতারকা। তাতে এবারের আসরে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে পর্তুগাল। জিতেছে ৫-০ গোলে। একটি করে গোল করেছেন নুনু মেন্ডিস ও রাফায়েল।
প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সাথে গোল পাননি রোনালদো। ফলে চারিদিকে চলছিল ব্যাপক সমালোচনা। অনেকে তো তাকে স্বার্থপর বলেও খোঁচা দিচ্ছিলেন। রোনালদো যদিও গায়ে মাখেননি, তবে ছেড়েও কথা বলেননি।
ম্যাচের মাত্র ৬ষ্ঠ মিনিটের মাথায় গোল করে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেন তিনি। আর সেই সাথে গড়েন দারুণ একটি রেকর্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ৬টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন।
রোনালদোর মতো লিওনেল মেসিও রেকর্ড ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন এবার। কিন্তু তিনি ২০১০ বিশ্বকাপে কোনো গোল করতে পারেননি। ফলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ১৮ গোলের মালিক হলেও এই রেকর্ডটি নেই তার।
এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে গোলখরা কাটালেন রোনালদো। এর আগে বিশ্বমঞ্চে শেষ ৫ ম্যাচে জালের দেখা পাননি তিনি। আর সাথে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ যোগ করলে সংখ্যাটা হয় ১০!
ফলে রোনালদোর জন্য এই গোলটা যেমন সব প্রশ্নের জবাব, তেমনি নিজেকে ফিরে পাওয়ার পাথেয়ও বলা যায়। ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাসে ভর করে আরো একটা গোল আদায় করে নেন তিনি।
প্রথম গোলটি পেয়েছিলেন জোয়াও কানসেলোর বাড়ানো বল ধরে। আর পরের গোলটি আসে ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের পাস থেকে। পর্তুগালের জার্সিতে যার তার ১৪৫ তম গোল।
জাতীয় দলের জার্সিতে তার চেয়ে বেশি গোল নেই আর কারো। সেই সাথে পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলে সবার ওপরে এখন রোনালদো (১০)। ৯টি গোল আছে ইউসেবিওর।
তার দুই গোলের মাঝে আরো একটি গোল আদায় করে নেন নুনু মেন্ডিস। ১৭ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে সরাসরি বল জালে জড়ান তিনি। তার বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শট আটকাতে গোলরক্ষক কোনো সুযোগই পাননি।
এদিকে ২৯তম মিনিটে বল হারিয়ে বসেন কানসেলো। সেই বল ধরে ২৫ গজ দূর থেকে রকেট গতির শটে জাল কাঁপান আজিজ গানিয়েভ। তবে তার দুর্দান্ত গোলটি বাতিল হয় আগমুহূর্তে ফাউল করার কারণে।
বিরতির আগেই হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন রোনালদো। গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বলটা পাঠিয়েই দিলেও শেষ মুহূর্তে বলটি ক্লিয়ার করেন আবদুকদির খুসানভ। ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পর্তুগাল।
দ্বিতীয়ার্ধে উজবেকিস্তানের জালে আর কত গোল দেয় পর্তুগাল, সে হিসেবই করছিলো সবাই। সেই লক্ষ্যে উজবেকদের গোলমুখে একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে যাচ্ছিল পর্তুগিজরা; কিন্তু গোল পাচ্ছিল না।
এমনকি একটি সেট পিস থেকে রোনালদোর নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেয় উজবেকিস্তান। তবে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি, ৬০ মিনিটে আসে চতুর্থ গোলটাও। যদিও গোলটা ছিল আত্মঘাতী।
বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন উজবেকিস্তান গোলরক্ষক আবদুবোহিদ নেমাতভ। যা এবারের আসরের ৯ম আত্মঘাতী গোল।
এরপর অবশ্য গোল এসেছে আরো একটি।
৮৭ মিনিটে বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়ে ডান পায়ে শট নেন রাফায়েল লিয়াওয়। নেমাতভ বাধা হতে পারেননি। স্কোর হয় ৫-০।
এদিকে, বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নিতে বেশ চেষ্টা চালান রোনালদো। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই কাঙ্খিত গোল আর মেলেনি। তবে বুড়ো বয়সে দারুণ আরো একটা রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
এই ম্যাচে ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে জোড়া গোল করেছেন রোনালদো। তার চেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে জোড়া গোল করার রেকর্ড নেই আর কারো। এর আগে মেসির দখলে ছিল এই রেকর্ড।
গতকাল রাতেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের ম্যাচে মেসির বয়স ছিল ৩৮ বছর ৩৬৩ দিন। এক দিন পরই সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন রোনালদো।
সব মিলিয়ে এই ম্যাচে পর্তুগালের আধিপত্য ছিল পুরোপুরি একতরফা। বল দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি- সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল ইউরোপের দলটি। বিপরীতে উজবেকরা রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল বলা যায়।















